সৌদিসহ কোথায়, কবে দেখা যেতে পারে রমজানের চাঁদ?

পবিত্র রমজানের চাঁদ অনুসন্ধানে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশের সব নাগরিককে আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। ওইদিন শাবান মাসের ২৯তম দিন।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দুই পবিত্র মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’।

যদি কেউ খালি চোখে অথবা দূরবীন ব্যবহার করে রমজানের চাঁদ দেখতে পান তাহলে তাকে নিকটস্থ কোর্টে গিয়ে স্বাক্ষ্য রেকর্ড করতে অনুরোধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এ ছাড়া নিকটস্থ কোর্টে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে নিকটস্থ সরকারি কেন্দ্রে যেতেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে আগামী ১ মার্চ থেকে আরব বিশ্বে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্র। সংস্থাটির পরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওদেহ বলেছেন, “আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আরব বিশ্বের কিছু জায়গায় অর্ধচন্দ্র দেখা যাবে। যদি চাঁদ দেখা যায় ওইদিন সন্ধ্যা থেকে রমজান শুরু হয়ে যাবে। কিন্তু ওইদিন চাঁদ দেখা না গেলে পরেরদিন ২ মার্চ থেকে শুরু হবে পবিত্র এ মাস।”

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটির বরাতে জানানো হয়েছে, ১ বা ২ মার্চ থেকে মক্কায় পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে। তবে অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধে এবার সৌদি আরবের আগেই উঁকি দিতে পারে রমজানের চাঁদ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদিসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোয় এখনো খালি চোখে চাঁদ দেখাকেই রমজান মাস শুরুর নির্ণায়ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ‘ক্রিসেন্ট মুন ওয়াচের’ তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি (২৯ শাবান) খুব সহজেই নতুন চাঁদটি দেখা যাবে। আর সৌদি আরবের মক্কার সময় অনুযায়ী ওইদিন রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে এই চাঁদের জন্ম হবে।

তবে এবার মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় দূরবীন বা অন্য কোনো যন্ত্রের সাহায্যেও নতুন চাঁদের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ‘ক্রিসেন্ট মুন ওয়াচের’ তথ্য বলেছে, এ বছর যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে তবে আগামী ১ মার্চ বিশ্বের প্রায় সব দেশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাবে। এই হিসেবে ‘গ্লোবাল সাউথের’ দেশগুলোয় এ বছর রমজান শুরু হতে পারে ২ মার্চ থেকে।

আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস হলো রমজান। এ মাসে আরব আমিরাতসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ রোজা রাখেন। আরবি মাসগুলো নির্ধারণ হয় চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। এই মাসটিতে মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগি বাড়ানোর পাশাপাশি দান করাও বাড়িয়ে দেন।

যদি ১ মার্চ রমজান শুরু হয় তাহলে রমজানের শেষ দিন হবে ২৯ অথবা ৩০ মার্চ।

যেহেতু রমজান মাস প্রতি বছর এগিয়ে আসে, তাই এ বছর শুরুর দিকের রোজাগুলোর সময় একটু কম হবে। তবে মাসের শেষ দিকে সময় বাড়বে।

এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম রোজাটি ১৪ ঘণ্টা ১৩ মিনিট দীর্ঘ হবে। সময় বাড়তে বাড়তে শেষ রোজাটি ১৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে গিয়ে পৌঁছাবে।

এরআগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের জ্যোতির্বিদ্যা বোর্ডের সদস্য ও রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা শেখ আব্দুল্লাহ বিন সুলেইমান আল-মানেয়া জানান, জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সৌদি আরবে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাবে। এতে দেশটিতে ১ মার্চ শুরু হবে মহিমান্বিত মাস রমজান।

তিনি আরও জানিয়েছেন, এ বছরের রমজান মাসটি হবে ২৯ দিনের। সে হিসেবে রমজানের শেষদিন হবে আগামী ২৯ মার্চ। আর ঈদুল ফিতর পালিত হবে ৩০ মার্চ। তবে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি ঘোষণা দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

রয়্যাল কোর্টের এই সদস্য বলেছেন, ১৪৪৬ হিজরি সনের রমজান মাসের চাঁদটির জন্ম হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ৩টা ৪৪ মিনিটে। ওইদিন সন্ধ্যায় সুর্যাস্তের ৩২ মিনিট পর্যন্ত চাঁদটি আকাশে অবস্থান করবে। যার অর্থ খুব সহজেই চাঁদটি খালি চোখে দেখা যাবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

যে তিন দেশে আজ উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর

নূর নিউজ

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন আল্লামা আরশাদ মাদানী

নূর নিউজ

মার্কিন মুসলিমদের কষ্ট ‘বোঝেন’ বাইডেন

নূর নিউজ